বাংলা স্টোরি ফেসবুক পেইজ কখনোই সেল করা হবে না। কোথাও কোনো এড দেখে পেইজ কিনতে গিয়ে স্ক্যামের স্বীকার হলে বাংলা স্টোরি কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

যেকোনো প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিন - +8801947368211

স্বল্প খুরচে ঘুরে আসুন কলকাতা

ja

কলকাতা ভারতের প্রাচীন শহর গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে কলকাতা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এই কলকাতা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘিরে আছে এই শহর। তাই কলকাতা সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের। সময় পেলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন কলকাতা শহর এবং এক্সফ্লোর করতে পারেন প্রাচীন দর্শনীয় স্থানগুলি।

বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যাওয়ার নিয়ম।
প্রথমত বাংলাদেশ থেকে ভারত বা কলকাতায় ভ্রমণের জন্য আপনার অবশ্যই ভারতীয় ভিসার প্রয়োজন।

ভারতীয় ভিসা পাবেন যেভাবে।
ভারতীয় ভিসার জন্য আপনার কিছু সংখ্যক ডকুমেন্টের প্রয়োজন।

* আপনার একটি ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকতে হবে যেটির মেয়াদ সর্বনিম্ন ৬ মাস থাকতে হবে।
* আপনার যদি পুরনো কোন পাসপোর্ট থেকে থাকে সেটিও সাথে জমা দিতে হবে।
* সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এ লাস্ট তিন মাসের মধ্যে তোলা ছবি দিতে হবে।
* আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি দিতে হবে।
* এনওসি বা নু অবজেকশন সার্টিফিকেট দিতে হবে। অথবা বিজনেস লাইসেন্স জমা দিতে পারেন।
* পাসপোর্টে ১৫০ ডলার এন্ড্রোসমেন্ট অথবা লাস্ট তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে, স্টেটমেন্ট টা অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে।
* অনলাইনে ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে, এবং ভিসা ফি প্রদান করতে হবে। এরপর উপরোক্ত ডকুমেন্টগুলো ইন্ডিয়ান এম্বাসিতে জমা দিতে হবে। এরপর ১০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে কবে নাগাদ আপনি আপনার পাসপোর্ট হাতে পাবেন। এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারবেন আপনার ইন্ডিয়ান ভিসা হয়েছে কিনা।

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণ করবেন যেভাবে।

বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণ করার দুটি উপায় রয়েছে।
আপনি বিমানের মাধ্যমে আকাশপথে কলকাতা প্রবেশ করতে পারেন। অথবা স্থলপথে বাস অথবা ট্রেনের মাধ্যমে ইন্ডিয়া প্রবেশ করতে পারেন।

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক কলকাতা প্রবেশ করার পরে কোন কোন স্থান গুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

১) নিউ মার্কেট –

বাংলাদেশীদের জন্য কলকাতা নিউমার্কেট একটি জনপ্রিয় জায়গা। এখানে গেলে আপনার মনেই হবে না আপনি কলকাতা রয়েছেন। মনে হয় যে বাংলাদেশের একটি অংশ। এই নিউ মার্কেট এড়িয়ায় প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশী ভ্রমণকারী রয়েছে। এখানে আপনি হোটেল বুকিং করতে পারেন। এখানে আপনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শহর দেখতে পারেন। এখানে আপনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী খাবার ট্রাই করতে পারেন। এখানে আপনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া গাড়ি চড়তে পারেন। এখানে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারও খেতে পারেন। এ নিউ মার্কেট এরিয়ায় আপনি অনেক কম দামে কেনাকাটা করতে পারেন।

২) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল –

কলকাতা গেলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে আসবেন না এটা হতেই পারে না। ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল একটি অসাধারণ স্থাপত্য। আমি যখন এখানে প্রবেশ করেছি আমার থেকে মনে হয়েছে কলকাতার সবচেয়ে সুন্দর স্থান গুলোর মধ্যে একটি হলো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে প্রথমে ৩০ রুপি দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। অসম্ভব সুন্দর একটি স্থাপত্য হচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এবং আপনি চাইলে এটির ভিতরে ও প্রবেশ করতে পারেন। তবে ভিতর থেকে বাহিরের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি। আপনি একটি অসাধারণ মুহূর্ত কাটাতে পারেন ভিক্টোরিয়ার মেমোরিয়াল এর মধ্যে।

৩) আলিপুর চিড়িয়াখানা – 

কলকাতা সুন্দর স্থান গুলোর মধ্যে আরেকটি হচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। আপনি যদি আপনার ফ্যামিলি সহ কলকাতা ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আলিপুর চিড়িয়াখানায় যেতে বলবেন না। আলিপুর চিড়িয়াখানায় গেলে আপনি অনেক কিছু দেখতে পারবেন। প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা এই চিড়িয়াখানা। যেসব প্রাণী জীবনে সরাসরি কখনও দেখেন নাই ঐ সকল প্রাণী ঐখানে দেখতে পারবেন। ওইখানে ৫০ রুপি দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। টিকেট কাটার পর প্রবেশ করে দেখতে পারবেন অজগর সাপ, জিরাপ, জেব্রা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, গন্ডার, জলহস্থি সহ অনেক প্রজাতির হরিণ, ব্রাজিলিয়ান টিয়ে পাখি, ময়ূর সহ নানান প্রজাতির পশু পাখি যা আপনি হয়তো আগে কখনোই দেখেন নাই।

৪) ইকোপার্ক

কলকাতার সৌন্দর্য স্থান গুলোর মধ্যে একটি স্থান হচ্ছে কলকাতা ইকোপার্ক। এই ইকোপার্কটি কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত। বিশাল এরিয়া জুড়ে এই ইকোপার্ক। এই ইকো পার্কে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। প্রকৃতি দিয়ে ঘেরায এই ইকোপার্কে প্রবেশ করার পর আপনি দেখতে পারবেন নানান প্রজাতির পাখি। সেখানে রয়েছে শত প্রজাতির ফুল। পাখির কিচিরমিচির সেখানে, নানান প্রজাতির ফুল ভোমরা, মৌমাছি, কাঠবিড়ালি সহ সবমিলে ভিতর প্রবেশ করার অসাধারণ একটি অনুভূতি জাগ্রত হয়। সামনে এগোতে এগুতে দেখতে পারবেন নানা প্রকার গাছ-গাছালি এবং একটি ছোট্ট নদী। এ নদীর পাশ ঘিরে আছে বিশাল অট্টালিকা। স্থানটি অসম্ভব সুন্দর, এখানে রয়েছে ছোট্ট একটি মিনি আইফেল টাওয়ার। সেখানে রয়েছে ছোট্ট একটি মিনি কলোসিয়াম, আরও আছে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির রুপে বানানো একটি মূর্তি। আপনি সে স্থানে ভ্রমণ করলে অনেকটাই মনে হবে যে আপনি ইউরোপে আছেন। তাই কলকাতা ভ্রমনে ইকো পার্ক হতে পারে একটি বেস্ট প্লেস।

৫) হাওড়া ব্রিজ

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সেতু হচ্ছে হাওড়া সেতু। ১৯৪৫ সালে এ সেতু চালু করা হয়। ঐতিহ্যবাহী সেতু দেখতে হলে আপনি অবশ্যই হাওড়া যেতে হবে। ১৯৬৫ সালে সেতুর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় রবীন্দ্রনাথ সেতু। এটি হুগলি নদীর উপর নির্মিত। বিশাল লম্বা এই সেতুটি দেখতে অসাধারণ।

শেষ অংশ

কলকাতা ভ্রমণে আপনি অনেক কিছু উপভোগ করতে পারবেন খুবই স্বল্প খরচে। আরো দেখতে পারেন শিয়ালদহ স্টেশন, নিউ টাউন, মাদার তেরেসার ঘর, বোটানিক্যাল গার্ডেন সহ আরো অনেক ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক শহরে। বাংলাদেশ থেকে খুব স্বল্প টাকা আপনি ঘুরে আসতে পারেন কলকাতার এই সুন্দর সুন্দর স্থানগুলি। মাত্র ৫-৬ দিন থেকেই মোটামুটি সৌন্দর্য স্থানগুলো আপনি ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি ভ্রমন পিপাসুদের আর্টিকেলটি কাজে আসবে। এ ধরনের আর্টিকেল পেতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ। ভ্রমণ সংক্রান্ত আরও পোস্ট পেতে ঘুরে আসুন আমাদের ট্রাভেল ক্যাটাগরিতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *